শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২৪ অপরাহ্ন
কামরুজ্জামান রানা,বিশেষ প্রতিবেদক//
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ খালপাড় সংযোগ সড়কটির বেহাল দশা। সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণের সময়কালীন সড়কটি পাকাকরণ করা হলেও এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়া এবং ভারি যানবাহন চলাচল করায় সড়কটি ভেঙে অসংখ্য বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে যানবাহন পড়ে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা আর বাড়ছে জনদুর্ভোগ। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই দুর্ভোগ কখন শেষ হবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না। বিসিসি’র দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নব-নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে কোন ধরণের সংস্কার করা সম্ভব হবেনা।
সরেজমিন দেখা যায়, সংযোগ সড়কে বিশাল একেকটি গর্ত। কার্পেটিং নেই, সড়কে ইটও দেখা যাচ্ছে না। আছে কাদা পানি। সড়কের চিহ্ন যেন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সেখানে একেকটি গর্ত পাড়ি দিতে বেশ কিছু সময়ও লাগছে বিভিন্ন যানবাহনের। সড়কটির নথুল্লাবাদ থেকে কাউনিয়া মরকখোলা পোল পর্যন্ত পুরোটাই চলাচলের অনুপযোগী। সেখানে সড়ক সংস্কারেরও কোনো কাজ হচ্ছে না। ডোবার মতো হয়ে গেছে সড়কের বড় একটা অংশ। সোবাহান মিয়ার পোল এলাকায় বিশাল আকারের গর্তে প্রতিনিয়ত কোন না কোন যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে। ফলে বর্তমানে এ সড়কটি কেউ ব্যবহার করছে না বলেই চলে। তবে বিএম কলেজ এলাকায় মাঝে মধ্যে বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে ছাত্ররা রাজপথে নামলে এই সড়কটিই নগরীতে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় বিভিন্ন যানবাহন অনেকটা বাধ্য হয়েই এ সড়কে প্রবেশ করে। আর তখনি কোন কোন দুর্ঘটনায় পড়ে যানবাহনগুলো।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সংযোগ সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথা ব্যাথাা নেই। তারা বলেন, প্রয়াত মেয়র হিরনের আমলে শেষ সংস্কার করা হয়েছিল সড়কটিতে। সদ্য বিদায়ী মেয়র আহসান হাবিব কামাল এর আমলে এ সড়কের কোথাও বিন্দুমাত্র সংস্কার করা হয়নি। আর একারণেই বর্তমানে সড়কটির বেহাল দশা।
এদিকে জেলখালের পাড়ে এ সড়কটি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের সড়কের বেশিরভাগ জায়গায় ভেঙে পড়েছে। শক্ত কোন পাইলিং না থাকায় ভাড়ি যানবাহন চলাচল করায় এমনটি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের সময়ে জেলখালের উভয় পার্শ্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করায় স্থানীয়রা একটি পরিচ্ছন্ন খাল ও সড়ক পাবে বলে আশা করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনেও খালের সংস্কার না হওয়ায় এ সড়কটি নিয়েও উদ্বীগ্ন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে বিসিসি’র দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নব-নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে এ সড়কটিতে সংস্কার কাজ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে মেয়র দায়িত্ব নিলেই অতিদ্রæত সংস্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন সূত্রটি।
Leave a Reply